সোমবার, ৬ জুলাই, ২০১৫

ইমাম আবু হানীফা (রাহ) কে যারা মুর্খতার বশত সমালোচনা করে তারা না জেনেই করে :-



ইমাম আবু হানীফা (রাহ) কে যারা সমালোচনার চোখে দেখে, হানাফী মাযহাবের যারা সমালোচনা করে, তারা সেটা নাজেনে, না বুঝেই করে থাকে। অথবা ষড়যন্ত্র মুলক ভাবে করে থাকে। ইতোপূর্বে এমন ঘটনা অনেক ঘটেছে।

তেমনি এক ঘটনা ঘটেছিল ইমাম আবু হানীফা (রাহ) এর সমসাময়িক আরেকজন বিখ্যাত ইমাম, ইমাম আওযা’ঈ (রাহ) এর সাথে।
ঘটনাটি উল্লেখ করছি।


★ বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস আব্দুল্লাহ বিন মুবারক (রাহ) বলেন,
আমি ইমাম আওযা’ঈ (রাহ) এর সাথে দেখা করতে শাম দেশে যাই, শাম দেশের বৈরুত নগরীতে তাঁর সাথে আমার দেখা হয়।
তিনি আমাকে দেখে বললেন-

يا خراساني من هذا المبتدع الذي خرج بالكوفة يكنى أبا حنيفة؟

হে খুরাসানী, কুফা নগরীর এ বেদআতী কে, যাকে আবু হানীফা বলা হয়?
ইবনুল মুবারক (রাহ) বলেন,
আমি তাঁর কথার কোন উত্তর না দিয়ে বাড়ী ফিরে এসে আবু হানীফা (রাহ) এর কিতাব নিয়ে বসি এবং তিন দিন ধরে তাঁর কিতাব থেকে বিভিন্ন মাসআলা লিপিবদ্ধ করি।
তৃতীয় দিন আবার আমি ইমাম আওযা’ঈ (রাহ) এর নিকট যাই। ইমাম আওযা’ঈ (রাহ) মসজিদের আযান দিতেন এবং নিজেই ইমামতি করতেন।
তিনি আমাকে দেখে বললেন,
তোমার হাতে এটি কী কিতাব?
আমি তাঁর হাতে কিতাবটি তুলে দিলাম। তিনি ঐসকল মাস’আলাগুলো দেখতে লাগলেন যা মাস’আলাগুলোর ক্ষেত্রে আমি লিখেছিলামঃ قال النّعمان অর্থাৎ নু’মান বলেছেন।
(এখানে ইবনুল মুবারক আবু হানীফা না লিখে উনার নাম নুমান লিখেছিলেন।)


★ ইমাম আওযা’ঈ (রাহ) আযানের সময় হয়ে যাওয়ায় আযান দিতে গেলেন এবং তারপর আবার তা দেখতে থাকেন। এমন সময় নামাজের সময় হয়ে গেলে কিতাবটি জামার পকেটে রেখে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে আমার নিকট এসে বললেন,
“হে খুরাসানী, এ নুমান বিন সাবিত কে?”
আমি উত্তরে বললাম,
তিনি ইরাকের এক শায়েখ, যার সাথে আমার দেখা হয়েছিল।
(এখানে তিনি আবু হানীফা নামটি উল্লেখ করলেন না।)


★ ইমাম আওযা’ঈ (রাহ) তখন বললেন,

هذا نبيل من المشايخ، اذهب فاستكثر منه.

ইনি তো একজন শ্রেষ্ঠ শায়েখ। তাঁর নিকট তুমি যাও এবং তাঁর থেকে অধিক ইলিম অর্জন কর।
আমি তখন বললাম,

هذا أَبُو حنيفة الذي نهيت عنه.

উনিই হচ্ছেন সেই আবু হানীফা যার ব্যাপারে আপনি নিষেধ করেছিলেন!!

★ ইবনুল মুবারক (রাহ) বলেন,
পরবর্তীতে ইমাম আওযা’ঈ এর সাথে মক্কা শরীফে ইমাম আবু হানীফা (রাহ) এর সাক্ষাত হয়েছিল।তখন তাদের উভয়ের মধ্যে ঐ মাস’লাগুলো নিয়ে আলোচনা হলো। ইমাম আবু হানীফা (রাহ) তাকে মাস’আলাগুলোর ব্যাখ্যা ভালভাবে বুঝিয়ে দিলেন।
ইবনুল মুবারক বলেন,
ইমাম আবু হানীফার নিকট থেকে সরে আসার পর আমি ইমাম আওযা’ঈ (রাহ)কে জিজ্ঞেস করলাম, ইমাম আবু হানীফা (রাহ)কে কেমন দেখলেন?

তিনি জবাব দিলেন,

استغفر الله- لقد كنت في غلط ظاهر- الزم الرجل فانه بخلاف ما بلغني عنه-

আমার ভুল ধারণার জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। সত্যিই আমি বড় ভুলের মধ্যে ছিলাম। তুমি তাঁর সঙ্গ কখনো ত্যাগ করবে না। মূলত তাঁর সম্পর্কে আমাকে যা জানানো হয়েছে, তা বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিপরীত।

রেফারেন্সঃ
১/আসারুল হাদীসঃ১২৪
২/ তারীখু বাগদাদঃ১৩/৩৩৮
৩/তারীখু দিমাশকঃ৩২/৩৯৯
______________________________

ইমাম আওযা'ঈ এর নিকট যে বা যারা ইমাম আবু হানীফা (রাহ) এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছিল, এদের উত্তরসূরী, এদের গোস্টি আজো আছে। আমাদেরকে নানাভাবে তাঁর বিরুদ্ধে, হানাফী মাযহাবের বিরুদ্ধে মনকে বিষিয়ে তোলার জন্য দিনরাত কাজ করে চলেছে। এদেরকে চিনে রাখুন।
এরা ধোঁকাবাজ।
এরা ষড়যন্ত্রকারী।
এরা সত্য গোপনকারী।
এদের বিরুদ্ধে নিজে সচেতন হোন। এবং সচেতনতা গড়ে তুলুন।

লিখেছেন : কলম সৈনিক

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Who was the Father of ibrahim? ইব্রাহীম (আ) এর পিতা কে ছিলেন?

The Prophet Ibrahim (may Allah’s peace and blessings descend upon our Prophet Muhammad and upon him and both their families) was the son of ...